খালেদা জিয়া কারও অনুকম্পায় মুক্তি চান না: ফখরুল

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর— ফোকাস বাংলা

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর— ফোকাস বাংলা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারও অনুকম্পায় মুক্তি চান না জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া জামিন না পেলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করা হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার যে আইনি হক, যে ন্যায্য অধিকার সেভাবেই তিনি মুক্ত হবেন। বেআইনি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে আটক রাখা যাবে না। জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রীকে অবশ্যই আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করবে।

খালেদা জিয়া আর দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবীদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে– এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই গণবিরোধী সরকার জনগণের অধিকার নিয়ে সব সময় খেলা করেছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যারা সবসময় গণতন্ত্রের সঙ্গে বেইমানি করেছে তারা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রেখেছে। এর একটি মাত্র কারণ, খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তাদের এই দুর্নীতির যে, স্বর্গরাজ্য, লুটপাটের যে স্বর্গরাজ্য, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেওয়া– এটা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার নীল নকশা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। সেজন্যই খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে তছনছ করে দিয়ে সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে। জনগণের কাছে আবেদন– এই সমস্যা শুধু বিএনপির নয়, এই সমস্যা শুধু পেশাজীবীদের নয়, এই সমস্যা পুরো দেশের মানুষের। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল গণতন্ত্র। এরা সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আজকে ক্যাসিনো নিয়ে খুব লাফালাফি হচ্ছে। কিন্তু ক্যাসিনোর থেকেও বড় সম্পদ জনগণের ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এই সরকার লুট করেছে। সেই লুট করা জিনিস ফিরিয়ে আনতে আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে নাকি এই সরকারের সুউচ্চ সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী যতবার ভারত যান ততবার হতাশ হই। আসার পর দেখি দেশের মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হয় না।

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শামসুল আলম, চিকিৎসক অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, কৃষিবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শামীমুর রহমান শামীম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জাকির হোসেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের জাহানারা বেগম প্রমুখ বক্তব্য দেন।