শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে বাসিন্দারা

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০১৯   

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

পদ্মায় বিলীন হয়েছে বাঁধের ৩০ মিটার অংশ

পদ্মায় বিলীন হয়েছে বাঁধের ৩০ মিটার অংশ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে ফের ধস দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন মাস আগে সংস্কার করা ৩০ মিটার অংশ পদ্মায় ধসে পড়েছে। 

বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাঁধ ধসে পানিতে চলে যায়। এতে বাঁধের ওপর কয়েক বাড়ির বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। 

এই ৩০ মিটার ছাড়াও পাশে ১০০ মিটার বাঁধও গত বছর ভেঙে যায়। সেই সংস্কার করা অংশটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের কালোয়া গ্রামে বাঁধের এ অংশটি পড়েছে। 

বাঁধে ধস দেখা দেওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়মের ফলেই বার বার এমন ঘটনা ঘটছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, এ বছর পদ্মায় প্রতিদিন পানি বাড়ছে, যা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এতে করে সব বাঁধ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধের যে অংশ ধসে পড়েছে তা সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছিল। গত বছরও এ অংশটি নদীতে চলে যায়। ভাঙন শুরুর পর পরই ৯ হাজার ব্লকসহ জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভাঙন বন্ধ হয়ে গেছে। পানি কমলে বাঁধটির এ অংশ পুনরায় মেরামত করা হবে।

অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব কাজে অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ দল এসব কাজ বুঝে নেয়। পানির চাপ বাড়লে অন্য স্থানেও ক্ষতি হতে পারে। তাই সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে বাঁধ নির্মাণের পর কয়া ইউনিয়নের কালো বাজার থেকে একটু দূরে বাঁধের একটি অংশ নদীতে চলে যায়। তিন মাস আগে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করেন স্থানীয় এক ঠিকাদার। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটার ভাঙন কবলিত অংশ মেরামত করা হয়। তবে সংস্কারের পর তিনমাসও টিকলো না মেরামত করা অংশ।

ঐতিহ্যবাহী কুঠিবাড়ি রক্ষায় ১৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়ার কয়া ইউনিয়ন থেকে শুরু করে শিলাইদহ অংশে ৩ হাজার ৭২০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই কয়ার কালোয়া অংশে ভাঙন শুরু হয়। দুই অংশ থেকে ১৫০ মিটার বাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সে সময় কাজের অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয়রা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দোষারোপ করে।

বাঁধের যে অংশ ধসে পড়েছে, তার ওপর একটি বসতভিটা রয়েছে। বাড়ির বাসিন্দারা জানান, এইবার দিয়ে তিনবার ভাঙলো। সকালে ভাঙন শুরু হওয়ার পর সবার মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাড়ি নদীতে চলে গেলে কি হবে সেই কথা ভাবছি। ইতোমধ্যে একটি ঘরের বেশ কিছুটা নদীতে চলে গেছে। 

সকালে ভাঙনের পর ধসে পড়া অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করার চেষ্টা চলছে। সিসি ব্লক ফেলার পর নতুন করে আর ভাঙন দেখা দেয়নি।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। নতুন করে আর কোনো জায়গা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারের যোগসাজসে অনিয়ম হয়েছে বলে সবাই অভিযোগ করছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

২০১৫ সাল থেকে শিলাইদহ কুঠিবাড়ির অদূরে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী তীর সংরক্ষণে প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুঠিবাড়ি ও আশেপাশের জনপদ রক্ষায় ১৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নদী তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়। শিলাইদহ এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৭২০ মিটার দীর্ঘ এ বাঁধ নির্মাণে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ ডিজেরূপ্লান্ট (বিডিপি) লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। তবে মূল ঠিকাদারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড মূলত এ কাজ বাস্তবায়ন করে।