সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপোতে কাজ করতেন ৪৫ রোহিঙ্গা

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০১৯   

 সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি কন্টেইনার ডিপোতে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে কাজ করতেন ৪৫ রোহিঙ্গা। কম মজুরিতে তাদের কাজ করাতো কন্টেইনার ডিপোর মালিক পক্ষ। একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় এই ডিপোটি পরিচালিত হয়ে আসছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৪৫ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে পুলিশ। আটক রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়া থেকে কম মজুরিতে কাজ করার জন্য স্থানীয় এক মাঝির মাধ্যমে এখানে নিয়ে আসে মালিক পক্ষ।

পুলিশ রোহিঙ্গাদের সীতাকুণ্ডে আনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার অনুসন্ধানে নেমেছে। এ বিষয়ে মামলা দায়ের হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে একদল রোহিঙ্গা সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের একটি ঘরে অবস্থান করে পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা মোবারকের একটি ঘর থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) শামীম শেখ বলেন, উখিয়ার কতুংপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা সীতাকুণ্ডের কেশবপুরের মোল্লাপাড়ার মোবারক সওদাগরের আশ্রয়ে আসে। তার ঘর থেকে ৪৫ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি (ইন্টেলিজেন্স) সুমন বণিক।

বিএম কন্টেইনার ডিপোর ম্যানেজার মো. খালেদ বলেন, মো. মনসুর, মা এন্টারপ্রাইজ ও খাজা এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লেবার ডেলিভারি দিয়ে থাকে। সেখানে কোনো রোহিঙ্গা আছে কী না আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, কন্টেইনার ডিপোতে কাজ করার সময় কোনো রোহিঙ্গা আটক হয়নি। কারখানার বাহিরে রোহিঙ্গা আটক হলে তার দায়-দায়িত্ব কর্তৃপক্ষ নেবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরে এখানে রোহিঙ্গারা বসবাস করে আসছেন। তারা কন্টেইনার ডিপোতে নিয়মিত চাকরি করতেন। প্রথমে কয়েকজন থাকলেও এখন অনেক বেড়েছে।

৪৫ জন রোহিঙ্গা আটকের পর বিএম কন্টেইনার ডিপোর ঠিকাদার মনছুর গা ঢাকা দিয়েছেন।