শরতের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

০১ অক্টোবর ২০১৯ | আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাজধানীর এক ব্যস্ত সড়ক- সড়ক

ছয় ঘণ্টায় মাত্র ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। এমন মৌসুমে একেবারেই স্বাভাবিক।
কিন্তু শরতের সেই স্বাভাবিক বৃষ্টিতেই ভাসল রাজধানীর অনেক এলাকা।

মঙ্গলবার এই বৃষ্টিতে রাজপথেও
সৃষ্টি হলো থৈ থৈ অবস্থা। অলিগলিসহ শাখাসড়কেও উপচে পড়ল সেই দৃশ্য। আর তাতেই
নগরজীবনে নেমে এলো সীমাহীন ভোগান্তি। অতিষ্ট হয়ে উঠল নগরবাসীর জীবন।

দুপুরের প্রায় দুই ঘণ্টার টানা বর্ষণে রাজারবাগ, শান্তিনগর,
ধানমন্ডি, সেগুনবাগিচা, মিরপুর এলাকায় বেশি জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সচিবালয়ের
ভেতরেও প্রায় কোমরসমান পানি জমে যায়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীতে
বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৬ মিলিমিটার
বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এই বৃষ্টিপাতও হয়েছে দুপুর পৌনে ১টা থেকে আড়াইটার
মধ্যে।

আবহাওয়া অফিস আগেই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছিল। সেই
বৃষ্টিপাতেই প্রধান সড়কগুলোতেও সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে
সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারগুলো রাস্তার ভেতরেই বিকল হয়ে পড়ার দৃশ্য
চোখে পড়ে।

বৃষ্টির পানিতে রাস্তা সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ায় লেগে যায় তীব্র যানজট। সুযোগ
বুঝে রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকতে থাকেন।
মেট্রো রেল প্রকল্প এলাকা দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনকে পড়তে হয়
মহাবিড়ম্বনায়। কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে যায় পুরো এলাকা।

অনেক স্থানে রিকশা
উল্টে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যান যাত্রীরাও। যানবাহন বিকল হওয়ার কারণে
পুরো সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রোকেয়া সরণির শেওড়াপাড়া থেকে মিরপুর ১০
পর্যন্ত পুরো সড়ক তলিয়ে যায়।

অনেক এলাকার পানির সাথে স্যুয়ারেজের লাইনের
বর্জ্য যুক্ত হয়ে যাওয়ায় সেসব এলাকায় দুঃসহ অবস্থা তৈরি হয়। রাজধানীর
ঝিগাতলা, ট্যানারি মোড়, শনিরআখড়া, রায়েরবাগ, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, মানিক
মিয়া এভিনিউ, কাকরাইল, বাড্ডা, কুড়িল, ভাটারা, আজিমপুর, মোহাম্মদপুর,
শ্যামলী, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, বংশাল, আজিমপুর, লালবাগ, কমলাপুর,
বাসাবো, মুগদাপাড়া, জুরাইনসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

ঢাকা ওয়াসা জানায়, বর্তমানে তাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় ১৫ থেকে
২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু স্বল্প
সময়ের মধ্যে দ্রুত বর্ষণ হলে কিছুটা জলজট তৈরি হয়। হঠাৎ বৃষ্টি হলে পানি
নিষ্কাশনের ক্যাসপিডগুলোর মুখে রাস্তার আবর্জনা আটকে পানি নিষ্কাশন বন্ধ
হয়ে যায়। তবে কিছু সময় পরই পানি নেমে গেছে।

বৃষ্টির পর প্রায় প্রত্যেকটি সড়কে লেগে যায় তীব্র যানজট। পরিস্থিতি সামাল
দিতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। কয়েকটি রাস্তার সংযোগস্থলে এমন
অবস্থার সৃষ্টি হয় যে ট্রাফিক সদস্যকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো দেখা
ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। ১০ মিনিটের পথ পেরুতে লেগে যায় কয়েক ঘণ্টা।

বৃষ্টিতে অফিস শেষে ঘরমুখী নগরবাসীকে ফিরতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যানজটের কারণে
অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটেই বাসার দিকে রওনা দেন। বৃষ্টির কারণে ভাড়া বাড়িয়ে দেয় শেয়ার
রাইডগুলোও।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)