আইপিএলের অ্যারাবিয়ান নাইটস

আজকের ম্যাচ মুম্বাই-চেন্নাই

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

দুবাইয়ে ফ্লাডলাইটের নিচে অনুশীলনের ফাঁকে এভাবেই আড্ডায় মাতে কোহলির বেঙ্গালুরু। সোমবার হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু তাদের এবারের মিশন-টুইটার

দুবাইয়ে ফ্লাডলাইটের নিচে অনুশীলনের ফাঁকে এভাবেই আড্ডায় মাতে কোহলির বেঙ্গালুরু। সোমবার হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু তাদের এবারের মিশন-টুইটার

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে হাতেগোনা যে ক'টি এখনও দর্শকদের বেশি টানে, তার মধ্যে অন্যতম আইপিএল। শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়ে রয়েছে এর জনপ্রিয়তা। অর্থ, তারকা কিংবা জৌলুস- যা-ই বলি না কেন, সবদিক থেকেই আইপিএলকে রাখতে হবে প্রথম সারিতে। অবশ্য এবারের প্রেক্ষাপট অতীতের মতো নয়। করোনাকালে আইপিএল তাও আবার ভারতের বাইরে, থাকবে না কোনো দর্শকও, মানতে হবে বহু নিয়ম। তার পরও নামটা যখন আইপিএল, তখন তো আলোচনা হবেই। আট দল নিয়ে আজ থেকে শুরু সেই আলোচনা। শেষ হবে ১০ নভেম্বর শিরোপা ফয়সালার মধ্য দিয়ে। মরুর বুকে মাসব্যাপী চার-ছক্কার এই ক্রিকেটযুদ্ধে কেউ হাসবে কেউ হারবে, কেউ আবার রাজ্যের আফসোস নিয়ে মাঠ ছাড়বে। তবে ২০১৪ সালের পর আবারও আইপিএল দেখবে অ্যারাবিয়ান-নাইট। ভারতের বাইরে এ নিয়ে তৃতীয়বার। সর্বপ্রথম ২০০৯ সালে নির্বাচনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় হয়েছিল আসরটি। এবার ১৩তম আসর গড়াবে আরব আমিরাতে তিনটি ভিন্ন ভেন্যুতে। আইপিএলের 'মরু সংস্করণ' নিয়ে লিখেছেন জহির উদ্দিন মিশু

যা কিছু নতুন

আইপিএল মানেই নতুন কিছু! প্রতিবছরই থাকে নানা নতুনত্ব। কখনও তারকার দিক থেকে, কখনও নিয়মনীতিতে আবার কখনও পদ্ধতিগত। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। অবশ্য করোনাকালে আইপিএল হওয়ায় বেড়েছে কিছু নিয়মও। পুরোনো স্পন্সর 'ভিভো' এবার নেই। সীমান্ত নিয়ে ভারত-চীনের মধ্যকার দ্বন্দ্বে কাটা পড়ে এই স্মার্টফোন কোম্পানিটি। আর এই সুযোগে আইপিএল সিজন ১৩-এর স্পন্সরস্বত্ব কিনে নেয় ভারতের ফ্যান্টাসি স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম ড্রিম ১১। বিডিংয়ে আরও কয়েকটি নামিদামি কোম্পানি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ড্রিম ১১ আইপিএল কর্তৃপক্ষকে ২২২ কোটি রুপি দিয়ে স্পন্সরে নাম ওঠায়। এদিকে করোনার কারণে এবারের আইপিএলে খেলোয়াড়দের মানতে হবে একাধিক নিয়মও। যেটা অতীতে ছিল না। বল শাইনিংয়ে জন্য কোনো বোলার মুখের লালা বা এ জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করতে পারবে না। সব ম্যাচই হবে ক্লোজডোরে। টসের পর দুই দলের ক্যাপ্টেন হাত মেলাতে পারবে না। পায়ের নো ধরবেন থার্ড আম্পায়ার। আর ম্যাচ চলাকালে, আগে বা পরে যদি কোনো দলের খেলোয়াড় করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে তার বদলি নিতে পারবে ওই টিম।

নেই বাংলাদেশি

সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আইপিএল খেলা ক্রিকেটার। এবার তার জন্য ছিল না দরজাটা খোলা। ফিক্সিংকাে জড়িয়ে নিষিদ্ধ থাকায় আইপিএলের নিলামে নাম দিতে পারেননি সাকিব। তবে যে ছয় বাংলাদেশি (তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার, মেহেদী মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ) এবার আইপিএল খেলার আগ্রহ দেখান, তাদের কোনো দলই কেনেনি। যদিও শেষ দিকে মুম্বাই ও কলকাতা মুস্তাফিজকে নিতে ইচ্ছা পোষণ করে; কিন্তু শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য বিসিবি তাকে ছাড়পত্র দেয়নি। তাতে ২০২০ আইপিএলে দেখা যাবে না কোনো বাংলাদেশিকে। ২০১১ থেকে আইপিএল মাতাচ্ছেন সাকিব। তারও আগে বাংলাদেশ থেকে আইপিএল খেলেছেন আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাদের মধ্যে সবার আগে ২০০৮ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আইপিএলের টিকিট পান আব্দুর রাজ্জাক। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে সেবার আইপিএল খেলতে যান তিনি। এরপর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে আইপিএল খেলতে যান আশরাফুল ও মাশারফি। অ্যাশকে কেনে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আর ম্যাশকে কলকতা নাইট রাইডার্স। ২০১২ ও ২০১৩ সালে পুনে ওয়ারিয়র্স তামিম ইকবালকে কিনলেও কোনো ম্যাচে নামায়নি। এরপর ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মুস্তাফিজুর রহমান পান আইপিএলে খেলার ছাড়পত্র। প্রথমবারেই বল হাতে ঝলক দেখান ফিজ। হায়দরাবাদকে চ্যাম্পিয়ন করতে দারুণ ভূমিকা ছিল তার।

কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি

করোনার মাঝে ক্রিকেট। কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি তো মানতেই হবে। দেশি খেলোয়াড়দের জন্য সেটা ছয় দিনের হলেও অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা এই নিয়মে পড়েননি। তাদের ক্ষেত্রে কেবল ৩৬ ঘণ্টা বা দেড় দিনের মতো কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। মূলত ইংল্যান্ড সফর শেষে যাতে বসে থাকতে না হয় সেজন্য এ ব্যবস্থা। তা ছাড়া সব দলই চায় তাদের তারকা খেলোয়াড়দের প্রথম দিন থেকে পেতে। এসব দিক বিচার করেই আইপিএল কর্তৃপক্ষ এই দুই দেশের ২১ ক্রিকেটারের জন্য ৩৬ ঘণ্টার কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি চালু করে। এ নিয়ে আইপিএলের এক সিনিয়র কর্তা বলেন, 'আমরা অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সব ক্রিকেটারের জন্য কোয়ারেন্টাইন ছয় দিনের বদলে ৩৬ ঘণ্টা করে দিয়েছে। আসলে সবাই চায় শুরু থেকে তাদের দলে পেতে।'

সৌরভের চ্যালেঞ্জ

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত সৌরভ গাঙ্গুলী আছেন প্রশংসার শিখরে। ঐতিহাসিক গোলাপি বলের টেস্ট, ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের পূর্ণ স্বাধীনতা, বিশেষ করে বিরাট কোহলির মতামতের গুরুত্ব। সব মিলিয়ে সৌরভে ভালোই চলছে বিসিসিআই। তার মধ্যে করোনা হানা। যেটা কারও কল্পনায়ও ছিল না। তাতে আইপিএল নিয়ে বড়সড় ঝামেলায় পড়ে যান তিনি। পুরোনো দিনক্ষণ অনুযায়ী যেখানে ২৯ মার্চ আইপিএল হওয়ার কথা সেখানে এখন সেপ্টেম্বরে হচ্ছে। তাও আবার ভারতের বাইরে। মূলত করোনার কারণে ভারতে লকডাউন ঘোষণা করায় বদলে যায় দৃশ্যপট। আইপিএল হবে কি হবে না, এ নিয়েও দ্বিধায় পড়ে যান সৌরভ। বিভিন্ন দেশ আয়োজক হতে আগ্রহ প্রকাশ করে। শেষমেশ আগস্টের শুরুতে নতুন দিন-তারিখ ঘোষণা করা হয়। ভারতের সরকারও অনুমতি দিয়ে দেন। তবুও শেষ হচ্ছে না সৌরভের চ্যালেঞ্জ। আসরটি ঠিকঠাকভাবে শেষ করাটাও তার জন্য পরীক্ষার।