জয়ের প্রত্যয়ে মাঠে ফেরা

নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ সামনে রেখে অনুশীলন শুরু করেছে জাতীয় ফুটবল দল

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃষ্টিতে মাঠ ভিজে থাকায় ঘাসের মধ্যে খুব একটা সময় কাটানো হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম নামা বলে ম্যানেজমেন্ট থেকেও চাপ কম নিতে বলা হয়েছে। অনুশীলনের প্রথম দিনে তাই কুপার টেস্ট আর হালকা শারীরিক কসরতেই কাটালেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা। তবে যে উপলক্ষ সামনে রেখে মাঠে ফেরা, নেপালের বিপক্ষে হতে যাওয়া সেই দুটি প্রীতি ম্যাচকে 'প্রতিশোধে'র মঞ্চ বানাতে চান সাদ উদ্দিনরা। আগামী মাসের ১৩ ও ১৭ তারিখে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ম্যাচ দুটি।

জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ খেলার পর থেকেই মাঠে নামতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল দল। মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলেও সব ধরনের খেলা থেকেই দূরে চলে যান ফুটবলাররা। তবে ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা উপলক্ষে আগস্টে ক্যাম্প শুরু হয়েছিল জাতীয় দলের। পরে বাছাইয়ের খেলা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় ক্যাম্পও। থমকে থাকা ফুটবল মাঠে ফেরানোর অংশ হিসেবে আগামী মাসে নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবলের ব্যবস্থা করেছে চলতি মাসে দায়িত্ব নেওয়া বাফুফের নির্বাহী কমিটি।

আগস্টে ক্যাম্পে থাকা ৩৬ জনকে ডাকা হয়েছে নেপাল ম্যাচের প্রাথমিক স্কোয়াডে। তবে বসুন্ধরা কিংসের ১৪ ফুটবলার শুক্রবার জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর দিন যোগ দেননি। এ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করানো কয়েকজন ফল হাতে না পাওয়ায় আসেননি। স্থানীয় সহকারী কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সারের নেতৃত্বে গতকাল প্রথম দিনের অনুশীলনে ছিলেন তাই মাত্র ১৪ জন। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকায় ফিটনেস যাচাইয়ের জন্য এদিন কুপার টেস্ট করা হয়েছে। ১২ মিনিটে স্টেডিয়ামের চারপাশে কয়েক চক্কর দেওয়া এই পরীক্ষায় সবাই 'আপ টু দ্য মার্ক' বলে জানিয়েছেন ফিজিও ফুয়াদ হাসান হাওলাদার, 'সাধারণত খেলোয়াড়রা লম্বা সময় খেলার বাইরে থাকলে তাদের আমরা একটা সেশন দিয়ে থাকি। সেটি ঠিকমতো অনুসরণ করল কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্য কুপার টেস্ট করা হয়।

এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের হার্টরেট, স্ট্যামিনা, স্পিড- এগুলা দেখা হয়ে থাকে। মোটামুটি সবাই অ্যাভারেজ, আপ টু দ্য মার্ক ছিল। স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে করা রানিংয়ে সর্বোচ্চ সাত ল্যাপ দিয়েছেন রহমত মিয়া। সাইফ স্পোর্টিংয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার বলেন, 'প্রথম দিন বলে আমাদের চাপ কম দিতে বলেছিল। এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সুস্থ থাকা। সাত-আট মাস পর যেহেতু মাঠে ফিরছি, সবাই খেলায় ফিরতে উদগ্রীব হয়ে আছে।'

কেবল মাঠে ফেরা নয়, নেপালের বিপক্ষে জয়ের প্রত্যাশাও করছে বাংলাদেশ। দুই দলের সর্বশেষ দেখায় এই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ২০১৮ সাফ সুজুকি কাপে ০-২ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তার প্রতিশোধ নেওয়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন উইঙ্গার সাদ উদ্দিন, 'দেশকে ভালো কিছু দেওয়ার লক্ষ্য আমাদের। শেষ দুটি ম্যাচে আমরা ওদের কাছে হেরেছি। আমাদের লক্ষ্য প্রতিশোধ নেওয়ার। জয়ের জন্য মাঠে নামব। চেষ্টা থাকবে নেপালকে হারানোর।' রহমত মিয়াও আশাবাদী জয়ের ব্যপারে, 'কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আমরা যখন এশিয়ান গেমসে গিয়েছিলাম, তখন কি ভাবতে পেরেছিলাম কাতারকে হারাতে পারব। আমরা চেষ্টা করব সেরাটা দেওয়ার, ভালো ফল পাওয়ার।'