ক্রীড়াঙ্গন জেগে ছিল জেগে আছে

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সিয়াম আনোয়ার

পুরোদমে মাঠে ফিরেছেন ফুটবলার ও ক্রিকেটাররা। ফুটবলে আগামী মাসে আছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ; ক্রিকেটে মাত্রই শেষ হয়েছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ-ফাইল ফটো

পুরোদমে মাঠে ফিরেছেন ফুটবলার ও ক্রিকেটাররা। ফুটবলে আগামী মাসে আছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ; ক্রিকেটে মাত্রই শেষ হয়েছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ-ফাইল ফটো

তায়কোয়ান্দো- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুব জনপ্রিয় কোনো খেলা নয়। তবে করোনাভাইরাসের থাবায় থমকে যাওয়া দেশের ক্রীড়াঙ্গন প্রায় ছয় মাস পর খেলাধুলার বদ্ধ দুয়ার খোলে মার্শাল আর্টকেন্দ্রিক খেলাটি দিয়েই। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন ঢাকায় আন্তঃজেলা প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরপর একে একে মাঠে নামতে শুরু করে অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশন। যার ধারাবাহিকতায় অক্টোবরের মাঝের দুই সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজন করে বৃহৎ পরিসরের বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ।

আগামী মাসে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এগিয়ে যাচ্ছে আরও একধাপ। কভিডযুগে প্রথম ফেডারেশন হিসেবে নেপালকে নিয়ে আয়োজন করতে যাচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এভাবেই ধীরে ধীরে সচল হয়ে উঠছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন, ফিরছে পূর্বের স্বাভাবিকতায়। আর প্রতিনিয়ত জানান দিয়ে যাচ্ছে- জীবন জেগে থাকবে।
দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর গণছুটি শুরু হয় মার্চের শেষ সপ্তাহে। এর আগেই সব ধরনের খেলা সাময়িক সময়ের স্থগিত হয়ে যায়। তবে করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় কিছুদিনের মধ্যেই 'সাময়িক' হয়ে যায় 'অনির্দিষ্ট'।

দেশজুড়ে অঘোষিত লকডাউন বা গণছুটি দফায় দফায় বেড়ে ৩০ মে পর্যন্ত চলে। এ সময়ে করোনা মোকাবিলায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিরা বাদে বাকি সবাই ছিলেন ঘরবন্দি। ব্যতিক্রম ছিলেন না ক্রীড়াবিদরা। তবে একেবারে নিশ্চল হয়ে থাকেননি তারা, শারীরিকভাবে ফিট থাকতে ঘরোয়া ও এলাকাভিত্তিকভাবে নিজেদের ট্র্যাকে রাখার চেষ্টা করে গেছেন। বিসিবি থেকে ক্রিকেটারদের জন্য কভিড-১৯ ওয়েলবিইং অ্যাপে তদারকির ব্যবস্থা করা হয়। বাসায় প্রয়োজনীয় ফিটনেসের গাইডলাইন দেওয়া হয় ফুটবলারদের।

এ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে যে যেভাবে পেরেছেন অনিশ্চিত সময়ে সম্পূর্ণ শুয়ে-বসে না থেকে মাঠে ফেরাকে কেন্দ্র করে কাজ করে গেছেন। যেমন নারী ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন সদস্য ময়মনসিংহে নিজেদের এলাকার স্কুলমাঠে একত্র হয়ে জগিং-রানিং করে গেছেন নিয়মিত। বসে ছিল না ফেডারেশন বা বোর্ডগুলোও। করোনার মধ্যেই মে মাসে চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ জেমি ডের। পরের মাসেই তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে ফেলে বাফুফে, যা কার্যকর হয় আগস্ট থেকে। বিসিবি ট্রেনারদের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি দেশের বাইরে থাকা কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে কনফারেন্সের ব্যবস্থা করে।

গণছুটি শেষ হওয়ার পর জুলাইয়ে মুশফিক-মুমিনুলদের মাঠে আসারও অনুমতি দেওয়া হয়। আগস্টে ঈদুল আজহার পর সরকার সীমিত আকারে দেশে খেলাধুলা চালুর অনুমতি দিলে এসব অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রমে আসে নতুন গতি। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক অনুশীলনের ব্যবস্থা করে বিসিবি। একই সময়ে গাজীপুরের একটি রিসোর্টে ফুটবলারদের ক্যাম্প আয়োজন করে বাফুফে। যদিও যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ক্যাম্প, অক্টোবর-নভেম্বরের সেই বিশ্বকাপ বাছাই স্থগিত হয়ে গেলে ক্যাম্পও গুটিয়ে ফেলা হয়।

তবে ৩ অক্টোবর নির্বাচনের মাধ্যমে বাফুফের নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর মাঠে খেলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার অংশ হিসেবে আগামী ১৩ ও ১৭ নভেম্বর ঢাকায় নেপালের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজিত হতে যাচ্ছে। ১১ থেকে ২৫ অক্টোবর ৪৫ জন ক্রিকেটার নিয়ে প্রেসিডেন্টস কাপ আয়োজনের পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে বিসিবিও।