সরাইলে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, আহত ৭

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্চ মুচিপাড়ায় পাঁচটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন সাতজন। 

গত বৃহস্পতিবার রাতের ওই ঘটনায় পরদিন শুক্রবার দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহতরা বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পূজা চলছিল। ওইদিন রাতে কালিকচ্ছ মুচিপাড়ার বাসিন্দা রিপন দাস পাশের গ্রাম থেকে পূজা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় এলাকার কিছু লোক তার পথ রোধ করে মাদক থাকার কথা বলে তার দেহ তল্লাশি করে। এ সময় মাদক না পাওয়ায় রিপন ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাহাত মিয়া, সুমন মিয়া ও রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক রিপনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তার স্বজনরা এগিয়ে এলে তাদেরও পেটানো হয়। রিপন রবিদাসসহ আহত অন্যরা হলেন- টিটন রবিদাস, শেফালী রানী, সঞ্জয় রবিদাস, রিমা রানী, সাজন রবিদাস ও পূজা রানী দাস।

আহত কালিকচ্ছ পাঠশালা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী রিমা রানী বলে, প্রায়ই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে এলাকার বখাটেরা আমাদের উত্ত্যক্ত করে, চামার বলে গালি দেয়। হামলার শিকার গৌরী রানী দাস ও বাসন্তী রানী দাস বলেন, তাদের পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সলিম উদ্দিনের ইন্ধনে এই হামলা হয়েছে। হামলার আগের দিন তারা মিটিংও করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সলিম উদ্দিন বলেছেন, আমার বাড়িতে কোনো বৈঠক হয়নি। তারা ৫০ বছর ধরে এখানে আছে। মুচিরা যে বাড়িতে থাকে, সেটা আমার পিতার কাছ থেকে ক্রয় করা। আর রিপন রবিদাসের দেহ তল্লাশি করে এলাকার লোকজন মাদক পেয়েছে। এ নিয়ে ঝামেলা হয়। ঘটনায় আমি জড়িত নই। আমরা তাদের (মুচি সম্প্রদায়) ১০০ ভাগ নিরাপদ রেখেছি।'

ঘটনার পর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক সুজন দত্তের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সুজন দত্ত বলেন, এখানে যে পাঁচটি হিন্দু পরিবার আছে, তাদের উচ্ছেদ করাই হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য।

সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পুলিশ দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলি আজাদ সংখ্যালঘুদের ওপর এমন হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।