উলিপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

গোলাম হোসেন মন্টু

গোলাম হোসেন মন্টু

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি সোলার সিস্টেমের (সৌরবিদ্যুৎ) প্রায় ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনিয়মের তদন্ত করতে গিয়ে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। তদন্ত শেষে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বরাবর পাঠিয়েছেন। এতদিন পুরো বিষয়টি গোপন ছিল।

গত সপ্তাহে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাধ্যমে ঘটনাটি ফাঁস হলে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনের ১৩ পৃষ্ঠার সব নথিপত্র সমকালের হাতে এসেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) সোলার কর্মসূচির আওতায় ৪৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৯ টাকার ২২টি প্রকল্প ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) সোলার কর্মসূচির আওতায় ৩৭ লাখ ১২ হাজার ৩৫৬ টাকার ২০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু উলিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টু উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে রিসডা বাংলাদেশের এরিয়া ম্যানেজার রিটন মিয়ার সঙ্গে যোগসাজশে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেন। এরই প্রতিকার চেয়ে জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব আবু বকর সিদ্দিক ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র পাঠান। পরে জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাফিজুর রহমান, জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা, উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলা ও অফিস সহকারী (কম্পিউটার অপারেটর) আমিনুল ইসলামকে নিয়ে উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তালিকা মোতাবেক সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করলে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। পরে গত ১৭ মে তদন্ত প্রতিবেদন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দেন জেলা প্রশাসক।

চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, 'আমি কোনো দুর্নীতি করিনি, তালিকায় কয়েকটি নাম পরিবর্তন করে অন্যদের সোলার প্যানেল দিয়েছি মাত্র।' জেলা প্রশাসক বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি এখন অধিদপ্তরে রয়েছে।